মালদা

হাসিমুখে শিল্পীর স্বীকার, এখনো কোন মণ্ডপে ঠাই হয়নি প্রতিমার

আসছে পুজো, বাঙালিদের সেরা উৎসব দুর্গা পুজো। মা দুর্গার আগমনীতে বিষাদ-ব্যসনেও উৎসবে মেতে ওঠে বাঙালিরা। কি আর করা যাবে। এ যে অদ্ভুত একটান। না, তবে আজ মায়ের কোনো গল্প নয়। আজকের কথা মালদা জেলা পুলিশ সুপার অফিসের এক হোমগার্ডের। তাঁর নাম বিষ্ণুপদ সাহা। দিনের বেলা কর্তব্য পালন করে। রাতে অবসর সময়ে শিল্পীর রূপ নেন এই পৌঢ় পুলিশকর্মী। তবে কি এমন কাজ করেন তিনি, যে তাঁকে শিল্পীর তকমা দেওয়া হল!শহরের কৃষ্ণ কালিতলা এলাকায় তাঁর নিজস্ব বাসভবনে স্ত্রীকে ডানহাত করে রাতের পর রাত জেগে তিনি গড়ে চলেছেন মা দুর্গার মূর্তি। তবে আর পাঁচজনের মতন সাধারন ভঙ্গিমায় নয়। মায়ের মূর্তি গড়াতে তাঁর প্রধান উপকরন মাটি নয়, মাছ ধরার জালের সুতো। নদীতে বা পুকুরে যে ঘুরন জালের মাধ্যমে মাছ ধরা হয়। সেই জালের সুতোকে কাজে লাগিয়েই তিনি গড়ে তুলেছেন মায়ের অপরূপ প্রতিমা। আধুনিকতার ছোঁয়া ও বাঙালির আবেগের সংমিশ্রণে তৈরি মায়ের এই প্রতিমা থেকে যেন চোখ সরানো যায় না।

            শিল্পী বিষ্ণুপদ সাহা জানান, যে বাঁকুড়ার ডোকরা শিল্পের আকর্ষণই তাঁর এই কাজের মূল রসদ। শুধু এবারই নতুন নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই তিনি পরিত্যক্ত, ব্যবহারের অনুপযোগী সামগ্রী দিয়ে মায়ের মূর্তি গড়ে তুলেছেন। যেমন- পরিত্যক্ত টায়ার-টিউব, মাটির ভাঙা হাঁড়ি, নারকেলের খুলি ইত্যাদি। এমনকি ২০১৫ সালে তারই হাতে গড়া কাগজের প্রতিমা বিশ্ববাংলা থেকে মনোনীত হয়। এই সব কিছুই দিনের পর দিন বাড়িয়ে চলেছে বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়া ওই পুলিশকর্মীর উৎসাহ। দৃষ্টি আবছা হয়ে এলেও শিল্পীর নজরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই মাছ ধরার জালের সুতো দিয়ে তৈরি প্রতিমার মধ্যেও থাকছে বিশ্বায়নের বার্তা।

            আর শিল্পী হাসিমুখে বলছেন, যে এই সব অভিনব ভাবনা গুলো দেয় তাঁর তরুণী মেয়ে বিপাশা সাহা। তবু এই হাসি মুখের আড়ালেও ফুটে ওঠে এক হতাশার ছবি। দীর্ঘ আট মাস ধরে, রাতের পর রাত জেগে, পুলিশের কর্তব্য পালনের ফাঁকে, অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়া এই অভিনব মূর্তিটির এখনো জায়গা হয়নি কোনো মণ্ডপে।

            নিরাশ মুখে শিল্পীর স্বীকার করেছেন যে, কোনো ক্লাব কর্তৃপক্ষই এখনো তাঁর সাথে যোগাযোগ করেনি। যে কারনে আজও ঠিকানা পায়নি মাছ ধরার জালের সুতোই তৈরি মা দুর্গার প্রতিমাটি। তবু আফসোস নেই শিল্পীর। তাঁর মতে কাজ তো করেই যেতে হবে। হয়তো এঁকেই বলে শিল্পীস্বত্বা। তবু দিনের শেষে প্রশ্নটা থেকেই যায়। আদৌ কি এবার সেই কর্মের ফল পাবেন শিল্পী বিষ্ণুপদ সাহা ? আগ্রহী হয়ে তাঁর কাজকে যোগ্য মর্যাদা দেবে কোনো ক্লাব কর্তৃপক্ষ ? নাকি পুজোর চারটি দিন কারখানাতেই আশ্রয় হবে দেবী দুর্গার ? উত্তরটা আজও অজানা।